আরও দেখুন
শুক্রবার EUR/USD পেয়ারের মূল্য ডিসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। মনে রাখা দরকার যে গত সপ্তাহের শুরুতে ইউরোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তাই এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করাই যৌক্তিক ছিল। শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া সত্ত্বেও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি ট্রেডারদের মনোভাবকে কার্যত প্রভাবিত করতে পারেনি। সকালে প্রকাশিত সকল প্রতিবেদন প্রায় নির্দ্বিধায় উপেক্ষিত হয়েছে, কারণ ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে প্রায় কোনোই মুভমেন্ট লক্ষ্য করা যায়নি। দিনের দ্বিতীয়ার্ধে তুলনামূলকভাবে স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন মার্কিন ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকগুলো (পরিষেবা ও উৎপাদন খাত ভিত্তিক) এবং মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হয়। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকগুলোর ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে প্রায় সঙ্গতিপূর্ণ ছিল, যখন ভোক্তা মনোভাব সূচকের ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে পূর্বাভাস অতিক্রম করে। সুতরাং, এই পেয়ারের দরপতন হলে সেটি অধিকতর যুক্তিযুক্ত হত। তবুও, গত কয়েক সপ্তাহ এবং গত বছর জুড়ে মৌলিক পটভূমিডলারের ওপর চাপ বজায় রেখেছে। অবশেষে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এরিয়ার কনসলিডেট করেছে, তাই দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান সাত মাসব্যাপী ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে বলে বিবেচনা করা যেতে পারে।
শুক্রবার দিনের শুরুতে ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে একটি ভুল সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কারণ দিনের প্রথমার্ধে এই পেয়ারের মূল্য একরকম স্থবির ছিল। পরে একটি বাই সিগন্যাল গঠিত হয়, যা থেকে বেশ ভালোই লাভ করা গিয়েছে। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1745–1.1754 রেঞ্জ ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়, এরপর দিনের বাকি সময় এই পেয়ারের মূল্য কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1851 লেভেল অতিক্রম করে, যা ইঙ্গিত দেয় আজ ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। গতরাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এরিয়ার উপরে কনসলিডেট করেছে, 1.1400–1.1830 এরিয়ার ওপরে অবস্থান মজবুত হওয়ায় এই পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়ে গেছে, তাই আমরা ইউরোর আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
সোমবার এই পেয়ারের মূল্য 1.1851 লেভেল থেকে বাউন্স করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1908-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1851-এর নিচে মূল্য কনসলিডেট করলে মূল্যের 1.1808 ও 1.1745–1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970-1.1988। আজ জার্মানিতে বিজনেস ক্লাইমেট সূচক সংক্রান্ত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে; যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। লক্ষ্যণীয় যে এই পেয়ারের মূল্য ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি প্রতিদিনই ডলারের দরপতন ঘটাতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।