আরও দেখুন
শুক্রবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, যা মূলত মৌলিক পটভূমির কারণে হয়েছে। মনে রাখা দরকার যে গত সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে উত্তেজনা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ-এর মধ্যে সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ সম্পর্কিত চাপ চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছায়। ট্রাম্প এই আর্কটিক দ্বীপটি জবরদখল করার বা কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত 10% শুল্ক আরোপ করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বুধবার ডাভোসে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ফোরামে সংকটের সমাধান হয়েছে। ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট ট্রাম্পকে একটি সমাধান প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তবে এই চুক্তির বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনও জানা যায়নি। যাইহোক, শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে এবং ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে তার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করেছেন। সপ্তাহের শুরুতে ডলারের দরপতন হয় এবং সপ্তাহের শেষ দিকে এই দরপতন আরও ত্বরান্বিত হয়। এর কারণ হলো মার্কেটের ট্রেডাররা মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধারাবাহিক সাম্রাজ্যবাদী হুমকি ও আল্টিমেটামের প্রতি প্রতিক্রিয়া দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, এবং এখন প্রায়শই হোয়াইট হাউজ থেকে আসা খবরগুলোতে ডলার বিক্রি করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। একই সময়ে কিছু মার্কিন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফলও উপেক্ষা করা হচ্ছে, যদিও টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। অতএব, যেকোনো দৃষ্টিকোণ থেকে 2026 সালে ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে শুক্রবার বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। সবই বাই সিগন্যাল ছিল। সকালে এই পেয়ারের মূল্য 1.3484–1.3489 এরিয়া থেকে দুইবার বাউন্স করার ফলে প্রথম সিগন্যালটি গঠিত হয়েছিল। ফলে নতুন ট্রেডাররা লং পজিশন ওপেন করতে পারতেন। পরবর্তীভাবে এই পেয়ারের মূল্য 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590 এবং 1.3643–1.3652 এরিয়াগুলো অতিক্রম করে। সুতরাং সবচেয়ে সংযত ধারণা অনুযায়ী একটি মাত্র লং পজিশন থেকে 120–130 পিপস মুনাফা অর্জন করা সম্ভব ছিল।
ঘন্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, তাই আমরা আগামী কয়েক সপ্তাহে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করতে পারি। মধ্যমেয়াদে বৈশ্বিক পর্যায়ে ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য কোনো ভিত্তি নেই, তাই ২০২৬ সালে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হলে এই পেয়ারের মূল্য শিগগিরই 1.4000-এর দিকে যেতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নীতিমালার এখনও মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে।
সোমবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3643–1.3652 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3574–1.3590-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.3643–1.3652 এরিয়া থেকে বাউন্স করলে বা 1.3682 লেভেলের উপরে কনসলিডেশন করলে লং পজিশন হোল্ড করা যাবে বা নতুন লং পজিশন ওপেন করা যাবে, যেখানের মূল্যের 1.3763-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য গুরত্বপূর্ণ লেভেলসমূহ 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3365, 1.3403-1.3407, 1.3437-1.3446, 1.3484-1.3489, 1.3529-1.3543, 1.3574-1.3590, 1.3643-1.3652, 1.3682, 1.3763, and 1.3814-1.3832। সোমবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা তুলনামূলকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে মৌলিক পটভূমিই মার্কেটে বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে, যা মার্কিন ডলারের শক্তিশালী দর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।