empty
 
 
27.01.2026 08:26 AM
২৭ জানুয়ারি কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

সোমবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা পরিলক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেলের উপরে অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি। তবে, এটি কোনো উল্লেখযোগ্য বিষয় নয়। আমরা প্রায় নিশ্চিত যে ইউরোপীয় মুদ্রার দর বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। গতকাল, এই পেয়ারের মূল্য 1.1400-1.1830-এর সাইডওয়েজ চ্যানেল থেকে বেরিয়ে এসেছে, যেখানে মূল্য 7 মাস ধরে অবস্থান করেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন বছরে মার্কিন ডলার থেকে বিনিয়োগ দূরে সরিয়ে নেওয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের মতে, ডলারের ভাগ্য ইতোমধ্যেই পূর্বনির্ধারিত। ট্রেডাররা গতকাল প্রকাশিত মার্কিন ডিউরেবল গুডস অর্ডার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের তুলনামূলক ইতিবাচক ফলাফলও উপেক্ষা করেছে। নভেম্বরের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়েও ইতিবাচক ছিল, কিন্তু মার্কেটে কোনো উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। বৈশ্বিক মৌলিক কারণগুলো ব্যাপকভাবে মার্কেটে প্রভাব ফেলছে এবং একারণে এই পেয়ারের মূল্য আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে। প্রতি ঘন্টার টাইমফ্রেমে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা এখন ট্রেন্ডলাইন দ্বারা সমর্থিত। বর্তমানে কোনো টেকনিক্যাল বা মৌলিক কারণ নেই যা ইউরোর দরপতনের ইঙ্গিত দেয়।

EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

This image is no longer relevant

৫ মিনিটের টাইমফ্রেমে, সোমবার বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, কিন্তু আমরা কিছু লেভেল সমন্বয় করেছি, তাই আমরা কেবল পুরনো লেভেলে গঠিত সিগন্যালটিই লক্ষ্য করেছি। মার্কিন ট্রেডিং সেশনের সময়, এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেল থেকে বাউন্স করেছিল, যা একটি সেল সিগন্যাল ছিল। এর পরে, এই পেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ১৫ পিপস কমেছে, এবং আজ আরও দরপতন হতে পারে।

মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এবং মূলত 1.1400–1.1830-এর এরিয়ার উপরে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করায় এই পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়ে গেছে, তাই আমরা ইউরোর আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।

মঙ্গলবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে অথবা 1.1908-এর লেভেল ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারবেন। গতকাল এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেল থেকে বাউন্স করায় মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা সম্ভব হয়েছিল।

5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988। আজ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি খাতের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সাপ্তাহিক ADP প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে এবং ইউরোজোনে ইসিবির প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ড বক্তব্য দেবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রকাশিতব্য প্রতিবেদন বা লাগার্ডের বক্তব্য মার্কেটে খুব একটা প্রভাব বিস্তার করবে না বলে আমরা ধারণা করছি।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.