empty
 
 
06.04.2026 11:13 AM
জ্বালানি তেলের মূল্য কোনোভাবেই স্থিতিশীল হচ্ছে না

গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিত উঠে আসায় ট্রেডারদের তীব্র প্রতিক্রিয়ির ফলে তেলের দরপতন হলেও জ্বালানি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

This image is no longer relevant

ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি $110-এ নিচে নেমে এসেছে, যা ব্যাপক দরপতনের শিকার হয়েছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দর প্রায় $111-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। অনলাইন সূত্রে জানা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং কয়েকটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য 45 দিনের যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যা চলমান যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে পরবর্তী 48 ঘণ্টার মধ্যে আংশিক কোনো চুক্তির সম্ভাবনা কম। উল্লেখ্য যে হরমুজ প্রণালী খোলার ব্যাপারে ট্রাম্পের আলটিমেটামের মেয়াদ 24 ঘণ্টারও কম সময় বাকি আছে।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্টে হুমকি দিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করা হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে "নরক" নামিয়ে আনা হবে। তেহরান এসব হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বেশিরভাগ জাহাজের ক্ষেত্রে নৌপথটি বন্ধই রয়েছে, কেবল অল্প কিছু জাহাজই অতিক্রম করেছে।

এতে বোঝা যায় পারস্য উপসাগরকে ঘিরে উত্তেজনার মাত্রা এখনও সংকটজনক পর্যাতে রয়েছে। ট্রাম্পের কঠোরভাবে হামলার মাত্রা বাড়ানোর প্রস্তুতি ও হুমকি দেয়ায়—বিশেষত তেহরান হরমুজ প্রণালী খোলার আলটিমেটাম পূরণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আঘাত করার বার্তা—বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টির করেছে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যারা এই সংঘর্ষের সুদূরপ্রসারী পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং স্পষ্টভাবেই 45 দিনের শান্তি আলোচনার সংবাদ বা গুজবে এতে ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

প্রত্যাশা অনুযায়ী তেহরানের প্রতিক্রিয়া কঠোর ছিল। ইরানের কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনের হুমকিকে অসম্মানজনক ও উত্তেজনাপ্রবণ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালী বেশিরভাগ জাহাজের চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে—এই ঘোষণাটি মার্কিন প্রশাসনের সামনে প্রত্যক্ষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এবং ব্যাপক চাপের মধ্যেও ইরানের অটল থাকার নীতি নিশ্চিত করেছে। এই ধরনের বিরোধ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেনি, বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতাকেও বিপন্ন করে তুলেছে।

চলমান যুদ্ধ ইতোমধ্যে জ্বালানি তেল খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যা অনিবার্যভবে সরবরাহ সংকট সৃষ্টি করেছে ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনা বাড়ছে তেলের দাম ও জ্বালানি পণ্যের দাম তীব্রভাবে বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ব্যবসা ও ভোক্তাদের উপর বাড়তি বোঝা তৈরি করেছে।

ট্রাম্প সোমবার 1:00 PM-এ একটি সংবাদ সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার 8:00 PM ইস্টার্ন টাইমে ডেডলাইন নির্ধারণ করেছে, কিন্তু এর মূল উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেননি। সূত্রমতে, ২৬ মার্চে ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী আবার অবরোধমুক্ত করতে ১০ দিনের ডেডলাইন দিয়েছিলেন, যা সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হবে।

This image is no longer relevant

বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $113.36 অতিক্রম করাতে হবে। তাহলে তারা তেলের মূল্যকে $118.88-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে, যেটি ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $124.86 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে তেলের মূল্য $106.83-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর জন্য বড় আঘাত হবে এবং তেলের মূল্য $100.40 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে $92.54 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.