আরও দেখুন
গতকাল মার্কিন স্টক সূচকগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছিল। S&P 500 সূচক 1.05% বৃদ্ধি পেয়েছে, আর নাসডাক 100 সূচক 1.64% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ 0.69% বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবু বর্তমানে স্টক সূচকের ফিউচারগুলো তীব্রভাবে নিম্নমুখী হচ্ছে। ইসলামাবাদের মার্কিন–ইরান শান্তি আলোচনা না হওয়ায় উত্তেজনা প্রশমনের প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, যার ফলে এইরূপ পরিস্থিতি দেখা যাছচে। এই প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের মূল রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে। এদিকে ইরান বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করেছে, যা মার্কেটে নেতিবাচক প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর, যা আশাবাদ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছিল, ভূ-রাজনীতির হঠাৎ অবনতি ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছে।
MSCI এশিয়া প্যাসিফিক ইক্যুইটি ইনডেক্স 0.6% হ্রাস পেয়েছে, যেখানে দর বৃদ্ধি পাওয়া স্টকের তুলনায় দরপতনের শিকার স্টকের সংখ্যা আনুমানিক তিন গুণ বেশি ছিল, কারণ জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিবাচক ফলাফলের প্রভাবে স্টক সূচকগুলো রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর S&P 500 ও প্রযুক্তিভিত্তিক নাসডাক 100 সূচক ফিউচার্স প্রায় 0.5% দরপতনের শিকার হয়েছে। ইউরোপীয় স্টক সূচকগুলো সেশন শুরু পর আনুমানিক 1% দরপতনের সম্মুখীন হয়েছে।
ব্রেন্ড ক্রুডের দর 1.1% বেড়েছে এবং ব্যারেল প্রতি $103-এ পৌঁছে, টানা চারদিন জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে; কারণ মার্কিন–ইরান আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় তেলের উচ্চমাত্রার সরবরাহ ঝুঁকি বিরাজ করছে। চলতি বছরের শুরু থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় 70% বেড়েছে, যার বেশিরভাগ ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়ায় বন্ডগুলোর দরপতন হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হবে, তবুও প্রায় দুই মাস ধরে চলা সংঘাত সমাধানে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে ও তেলের উচ্চ মূল্য বজায় থাকলে বিশ্ব অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি বাড়বে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটককৃত দুইটি জাহাজ এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও এপামিনোডাসকে আজ ইরানী নৌবাহিনী দেশটির বন্দরে নিয়ে গেছে, যা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন প্রচেষ্ঠা নির্দেশ করে।
অন্যদিকে স্বর্ণ প্রায় 0.8% দরপতনের শিকার হয়ে আউন্স প্রতি প্রায় $4,700-এ নেমে গেছে। রূপার দর প্রায় 2% হ্রাস পেয়ে আউন্স প্রতি প্রায় $76.15-এ নেমেছে, এবং বিটকয়েনের মূল্য প্রায় $77,800-এ নেমে এসেছে।
S&P 500‑এর টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, আজ ক্রেতাদের সূচকটির মূল্যের নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $7,125 অতিক্রম করাতে হবে। এতে সূচকটির মূল্যের আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হবে এবং $7,138 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা প্রশস্ত হতে পারে। ক্রেতাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে সূচকটির দর $7,156-এর ওপরে বজায় রাখা, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে দৃঢ় করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কম থাকায় যদি নিম্নমুখী মুভমেন্ট দেখা যায়, তাহলে সূচকটির দর $7,106-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। ওই লেভেল ব্রেক করলে সম্ভবত ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্য $7,087-এ ফিরে যাবে এবং এর ফলে $7,066‑এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।