empty
 
 
24.07.2026 09:19 AM
২৪ জুলাই কীভাবে EUR/USD পেয়ারের ট্রেডিং করবেন? নতুন ট্রেডারদের জন্য ট্রেডিংয়ের সহজ পরামর্শ ও বিশ্লেষণ

বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:

EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

This image is no longer relevant

EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের সাইডওয়েজ চ্যানেলের ভেতরেই গত এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া দরপতন অব্যাহত রয়েছে। এখন ধারাবাহিকভাবে চার সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা বেশ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। এই মুহূর্তে ইউরোর মূল্য উক্ত চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারিতে পৌঁছেছে, সুতরাং আজ অথবা সোমবারে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট শেষ হতে পারে বা এই পেয়ারের মূল্য 1.1377 থেকে বাউন্স করে উক্ত চ্যানেলের আপার বাউন্ডারির দিকে নতুন একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বর্তমানে মার্কেটে বিশুদ্ধ টেকনিক্যাল মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে; এবং ট্রেডাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও মৌলিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে চলেছে। গতকাল ইউরোর দরপতনের তেমন কোনো ভিত্তি ছিল না। ইসিবির মুদ্রানীতি অপরিবর্তিত রয়েছে, এবং ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থান গ্রহণের কোনো ইঙ্গিতও পাওয়া যায়নি, উল্লেখ্য যে ট্রেডাররা এমন একটি সিদ্ধান্তেরই আশা করছিল। তবুও ক্রিস্টিন লাগার্ড ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সেপ্টেম্বরেই সুদের হার বাড়ানো হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি আবার বৃদ্ধি পেতে পারে, যার ফলে ইসিবির আরও পদক্ষেপ নিতে হতে পারে—তবে এই তথ্যটিও ট্রেডাররা উপেক্ষা করেছে, ঠিক যেমন দেড় মাস আগে ইসিবি কর্তৃক সুদের হার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করা হয়েছিল।

EUR/USD পেয়ারের 5M চার্ট

This image is no longer relevant

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি। সারাদিন ধরে এই পেয়ারের দরপতন ঘটেছে, তবে দিনের শেষ নাগাদ এই পেয়ারের মূল্য শুধুমাত্র 1.1363-1.1377 এরিয়া কার্যকরভাবে অতিক্রম করেছে। আজ মূলত এই এরিয়ার আশপাশে ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:

ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য উভয় ট্রেন্ডলাইনই ব্রেক করেছে এবং এখন আর সেগুলো প্রাসঙ্গিক নেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি ও মুভমেন্ট বিবেচনা করে আমাদের ধারণা ইউরোর মূল্য বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে; এবং এটির মূল্য এখনকার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালীভাবে বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। তবে সত্যিকার অর্থে বর্তমান উর্ধ্বমুখী মুভমেন্টটি একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে; এবং এই মুভমেন্টটি কোনো নির্দিষ্ট প্রবণতার চেয়ে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। ট্রেডাররা এখনও ইউরোর জন্য ইতিবাচক প্রায় সকল কারণ উপেক্ষা করে চলেছে।

শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1363-1.1377 এরিয়ার নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1267-1.1275-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1363-1.1377 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে এবং মূল্যের 1.1461-1.1466-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে আজ আমরা মার্কেটে এই পেয়ারের মূল্যের তীব্র অস্থিরতার প্রত্যাশা করছি না।

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1275, 1.1363-1.1377, 1.1461-1.1466, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1594, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754। শুক্রবার জার্মানি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ের পরিষেবা ও উৎপাদন খাতের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক প্রকাশিত হবে। আমরা ইউরোপীয় সূচকগুলোর প্রতি মনোযোগ দেব; আর মার্কিন সূচকগুলো সম্ভবত উপেক্ষিত হবে।

ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:

  1. সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
  2. ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
  3. ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
  4. ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
  5. MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
  6. নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
  7. স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।

চার্টে কী কী রয়েছে:

  • সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
  • লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
  • MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.