আরও দেখুন
বৃহস্পতিবারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গৃহীত অবস্থান ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে মার্কিন জিডিপির হতাশাজনক ফলাফলের প্রভাবে GBP/USD পেয়ারের মূল্য আত্মবিশ্বাসীভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত, গতকাল মার্কিন ডলার ব্যাপকভাবে দরপতনের শিকার হয়েছে এবং ট্রেডাররা অবশেষে বুঝতে পেরেছে যে বর্তমানে কোনো বিষয়ই আমেরিকান কারেন্সির পক্ষে কাজ করছে না। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ইসিবি ফেডের তুলনায় মুদ্রানীতি কঠোর করার অনেক কাছাকাছি চলে আসছে। মার্কিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মন্থর গতিতে অবনতি হচ্ছে এবং ফেড আর্থিক নীতিমালা কঠোর করতে শুরু করলে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও মন্থর হবে। আগামি মাসগুলোতে মার্কিন শ্রমবাজার পরিস্থিতির কারণে ফেড হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে পারে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনিশ্চিতই রয়ে গেছে, তাই মুদ্রাস্ফীতির ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস দেওয়াই বৃথা। আমাদের ধারণা এখন প্রত্যাশার ওপর ভিত্তি না করে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার সময়। এছাড়া হায়ার টাইমফ্রেমগুলোর কথাও ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না—সেখানে ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য যথেষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২২ থেকে শুরু হওয়া ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, এবং এই পেয়ারের মূল্য বার্ষিক সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। সবগুলো বাই সিগন্যালই লাভজনক ছিল যা সবুজ রেক্টেঙ্গেল দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা শুরু হওয়ার আগে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয় যা ফলস প্রমাণিত হয়ে ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে দুইটি লং পজিশন থেকে বেশ ভালই মুনাফা করা গিয়েছে এবং শর্ট পজিশনের লোকসান পুষিয়ে নেয়া গিয়েছে।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নতুন একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়ে। আমাদের মতে, স্থানীয় কারণগুলো পাউন্ডকে সহায়তা না করলেও এটির মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে গত মাস থেকেই এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এখনও এই মুভমেন্ট সম্পন্ন হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে ফেডের গৃহীত সিদ্ধান্ত মার্কিন ডলারকে সহায়তা করেনি, এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে এটির মূল্য চিরকাল ধরে বাড়তে পারবে না, তাই আমেরিকান কারেন্সির আরও দর বৃদ্ধির জন্য আমরা কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ দেখছি না।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3380-1.3386-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া ব্রেক করলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে; যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3096-1.3107, 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, এবং 1.3695। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্ট নির্ধারিত নেই, আর যুক্তরাষ্ট্রে কেবল ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচকের দ্বিতীয় প্রাক্কলন প্রকাশিত হবে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।