আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার মাত্র দুটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং এগুলোর কোনোটিই মার্কেটে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে না। জার্মানিতে GfK কনজউমার কনফিডেন্স সূচক প্রকাশিত হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রে আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে করবে। তবে এই প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে বলে আমরা মনে করছি না; তাই আজ মার্কেটে আবারও অত্যন্ত মন্থর ট্রেডিং দেখা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে অন্যতম হলো আজ জ্যাকসন হোলে অনুষ্ঠেয় সিম্পোজিয়াম শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ আগামীকাল বক্তব্য রাখবেন। ওয়ার্শ সম্ভবত মুদ্রানীতি নিয়ে আলোচনা করবেন এবং তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মার্কেটে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে আমাদের ধারণা, ওয়ার্শের বক্তব্য আবারও যথাসম্ভব অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্টই হবে। তাই প্রশ্ন হলো, ট্রেডাররা তাঁর বক্তব্যকে কীভাবে ব্যাখ্যা করবে—কারণ ট্রেডাররা সেগুলোকে যেকোনোভাবেই ব্যাখ্যা করতে পারে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে ওয়ার্শ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মার্কেটে এই ধারণা দানা বাঁধতে শুরু করে যে, মুদ্রানীতি অনিবার্যভাবে কঠোর করা হবে। তবে আগস্ট মাসে মুদ্রানীতি হকিশ বা কঠোর করার প্রত্যাশা ম্লান হতে শুরু করে—যদিও ওয়ার্শ এখনও উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছেন।
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ হতাশাজনক রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না, হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের উপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে একগুচ্ছ দাবি পেশ করেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবেন না। ইরান ওয়াশিংটনকে এও সতর্ক করেছে যে, যদি হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে না নেওয়া হয়, তবে তারা নিজেদের বাহিনী ব্যবহার করে প্রণালীটি 'অবমুক্ত' করার অভিযান শুরু করবে। এরই মধ্যে, ইরানকে ধসিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে ট্রাম্প এক অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সেইসাথে ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান হুমকি দিয়েছে যে অন্যান্য দেশ যদি ওয়াশিংটনের সাথে তাদের উপর চাপ সৃষ্টিতে শামিল হয়, তবে আরও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক প্রণালী ও নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
চলতি সপ্তাহের শেষ দিকের ট্রেডিংয়ে, উভয় কারেন্সি পেয়ারের বেশ সক্রিয় ট্রেডিং দেখা যেতে পারে, তবে শুধুমাত্র দিনের দ্বিতীয়ার্ধে। আজ ইউরো 1.1655-1.1665 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, অন্যদিকে ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3587-1.3598 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে। সার্বিকভাবে, আমরা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরো এবং পাউন্ড উভয়েরই আরও মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।