আরও দেখুন
বৃহস্পতিবার রূপার (XAG/USD) মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং দিনের ব্যবধানে এটির মূল্য 2.75% বেড়ে $70.00-এর রাউন্ড লেভেলের ঠিক নিচে অবস্থান করছিল। জ্যাকসন হোলে আয়োজিত সিম্পোজিয়ামের দিকে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ সরে আসার প্রেক্ষাপটে, এই মূল্যবান ধাতুটির দর এমন একটি রেঞ্জের আপার বাউন্ডারির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যে রেঞ্জের ভেতরে সারা সপ্তাহ ধরে রূপার মূল্য ওঠানামা করছিল।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের আসন্ন বক্তব্য, যা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রেডাররা এখন এমন সব ইঙ্গিত খুঁজছে যা থেকে বোঝা যাবে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির চাপকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে এবং সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হতে পারে।
জুলাই মাসের মুদ্রানীতি বিষয়ক বৈঠকে ওয়ার্শ ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত না দিলেও, মুদ্রাস্ফীতিকে 2%-এর লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন। শুক্রবারের এই ধরনের বক্তব্য সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থাকার প্রত্যাশাকে আরও জোরালো করে তুলতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত রূপার মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোতে ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বুধবার প্রকাশিত ভোক্তা ব্যয়ের সূচক (পিসিই) থেকে দেখা যায় যে, মুদ্রাস্ফীতি এখনও ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি; তবে সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত সূচকগুলোতে মুদ্রাস্ফীতির তীব্র বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। সিএমই ফেডওয়াচের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মুদ্রানীতি বিষয়ক বৈঠকে ফেড সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬২ শতাংশ।
ফেডের কয়েকজন কর্মকর্তা মুদ্রাস্ফীতির প্রবণতা নিয়ে সতর্কতার কথাও প্রকাশ করছেন। বৃহস্পতিবার ক্লিভল্যান্ড ফেডের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক উল্লেখ করেন যে, অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার; তিনি আরও বলেন যে, বর্তমান মুদ্রানীতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য সংকোচনমূলক নয়। এছাড়া তিনি মুদ্রাস্ফীতিকে 2%-এ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে ফেডের সক্ষমতার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হারানোর ঝুঁকির ওপরও জোর দেন।
এদিকে, কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ শ্মিড উল্লেখ করেছেন যে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মার্কিন অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার গুরুত্বকে নিশ্চিত করে। শিকাগো ফেডের প্রেসিডেন্ট অস্টিন গুলসবি স্বল্পমেয়াদে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন—আর তা হলো, মুদ্রাস্ফীতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বিনিয়োগকারীরা যদি মুদ্রানীতি নমনীয়করণের ব্যাপারে তাদের প্রত্যাশা পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেন, তবে এই বক্তব্যগুলো মার্কিন ডলারের দঢ় ও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেলে এবং সুদের হার বেড়ে গেলে প্রায়শই রূপা হোল্ড করার 'অপর্চুনিটি-কস্ট' বেড়ে যায়, যা ধাতুটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
তবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মূল্যবান ধাতুগুলোকে কিছুটা সহায়তা করে যাচ্ছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে; এছাড়া জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে বিবেচিত অ্যাসেটের চাহিদা এবং মুদ্রাস্ফীতিজনিত ঝুঁকিকে প্রভাবিত করছে।
ট্রেডিংয়ের আরও কার্যকর সুযোগের জন্য শুক্রবার অনুষ্ঠেয় ওয়ার্শের বক্তৃতার জন্য অপেক্ষা করা উচিত; তাঁর মন্তব্য মার্কিন ডলারের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং এর ফলে রূপার মূল্যেরও নতুন মোমেন্টাম সৃষ্টি হতে পারে।
টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, রূপার মূল্য সাপ্তাহিক রেঞ্জের আপার বাউন্ডারির কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে এবং 9-ডে EMA ও 66.83 লেভেলের নিচেও স্থিতিশীল অবস্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। অসিলেটরগুলো পজিটিভ জোনে রয়েছে, যা মার্কেটে বুলিশ বা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আধিপত্য নিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে রূপার মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনাই বেশি বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।