empty
 
 
26.01.2026 01:04 PM
পাওয়েল ট্রাম্পের কাছে মাথা নত করবেন না

মার্কিন সুদের হার নীতিনির্ধারণী বিষয়ক কমিটি চলতি বছরে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসতে পারে। রাজনৈতিকভাবে ব্যাপক সংবেদনশীল এই মুহূর্তে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুদের হার হ্রাসের আবেদনকে উপেক্ষা করার কথা ভাবা হচ্ছে।

This image is no longer relevant

তবে সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার প্রত্যাশা সত্ত্বেও পরে ফেডের বিবৃতিটি এবং ফেড চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলনের ওপর বিশেষভাবে দৃষ্টিপাত করা হবে। বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা মার্কিন মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নির্দেশ করবে এমন ইঙ্গিত খুঁজতে প্রতিটি শব্দ বিশ্লেষণ করবেন।


বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্থরতা, বাকি বিশ্বের সঙ্গে অব্যাহত বাণিজ্য উত্তেজনা এবং ডলারের তীব্র দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে ফেডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে—ফেডকে একইসাথে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করতে হবে ও মুদ্রাস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। একদিকে, সুদের হার হ্রাস ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়াতে এবং শ্রমবাজারের ইতিবাচক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে। অন্যদিকে, অতিমাত্রায় নমনীয় মুদ্রানীতি অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।


অতএব, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি সম্ভবত অপেক্ষা-ও-পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করবে এবং অর্থনৈতিক প্রতিবেদন ও ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাসমূহ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। আগামী মাসগুলোর মধ্যে ফেডের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলবে এমন প্রধান উপাদানগুলো হল—মুদ্রাস্ফীতির হার, শ্রমবাজারের পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের সমাধান। বিনিয়োগকারীদের ওয়াশিংটন থেকে আসা সংকেতগুলোর দিকে নজরে রাখা উচিত এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাদের কৌশল সমন্বয় করতে হবে।


এছাড়া, ট্রাম্পের কাছ থেকে সুদের হার কমানোর নির্দেশের পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের হুমকির মুখে রয়েছে। গত বুধবার সর্বোচ্চ আদালতে এই বিষয়ে এক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে যে প্রেসিডেন্ট কি ফেডের গভর্নর লিসা কুককে অপসারণ করতে পারবেন কি না—এ প্রসঙ্গে আদালতেও ট্রাম্প কর্তৃক ফেডের কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার প্রচেষ্টাকে নিয়ে সতর্কতা দেখা গেছে।


সম্ভাব্যতা অনুযায়ী, ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এমন প্রতিবেদন তুলে ধরতে সক্ষম হবে যা সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। এমন ঐক্য জেরোম পাওয়েলের জন্য সুবিধাজনক হিসেবে বিবেচনা হবে, যিনি হোয়াইট হাউস থেকে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন রয়েছেন। এই বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বরা হলেন গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার ও মিশেল বোম্যান: তারা যদি সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পক্ষে ভোট দেন, তাহলে ট্রাম্প এই ইঙ্গিত পাবেন যে পাওয়েলের প্রতিষ্ঠানগত সমর্থন রয়েছে।


পাওয়েল সম্ভবত ইঙ্গিত দেবেন যে আর্থিক নীতিমালা আপাতত উপযুক্ত পর্যায়ে রয়েছে, একইসাথে তিনি সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে তীব্র বা সাহসী মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন। এতে নীতিনির্ধারকদের পূর্বে গৃহীত সুদের হার হ্রাসের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য সময় সুবিধা হবে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার হ্রাস পেলেও মুদ্রাস্ফীতির হার ফেডের লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে—এটি হকিশ বা কঠোর ও ডোভিশ বা নমনীয় অবস্থানধারী ফেড সদস্য উভয় পক্ষকেই শান্ত করতে পারে এবং আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণে বিরতি গ্রহণের পক্ষে সমর্থন গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

টেকনিক্যাল পূর্বাভাস


EUR/USD


EUR/USD-এর টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1890 লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্য 1.1934-এ পৌঁছাতে পারে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1970-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া তা করা বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.2000 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, আমি কেবল মূল্য 1.1847-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম প্রত্যাশা করব। যদি সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়, তবে নতুন করে 1.1815-এ দরপতনের জন্য অপেক্ষা করাই শ্রেয় বা 1.1785 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD


GBP/USD-এর ক্ষেত্রে পাউন্ডের ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3685-এ নিয়ে যেতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্যের 1.3720-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3754 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে, আমি কেবল মূল্য 1.3650-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি। যদি তারা সফল হয়, তবে এই এরিয়া ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ ট্রেডারদের জন্য গুরুতর আঘাত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3620-এ নেমে যেতে পারে, সেইসাথে 1.3590 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Recommended Stories

এখন কথা বলতে পারবেন না?
আপনার প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন চ্যাট.