আরও দেখুন
মঙ্গলবার আবারও GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে—যদিও টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী এই মুভমেন্ট সম্পূর্ণ যৌক্তিক। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহের শেষে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য অ্যাসেন্ডিং চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি ব্রেক করে করে নিম্নমুখী হয়েছিল; ফলে একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। তবে এই মুভমেন্টের পেছনে কোনো মৌলিক বা সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটগত কারণ বা যৌক্তিকতা আমাদের চোখে পড়েনি। গতকাল যুক্তরাষ্ট্রে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যার কোনোটিই মার্কিন ডলারকে সহায়তা করতে পারেনি। আইএসএম (ISM) ম্যানুফ্যাকচারিং সূচকটির ফলাফল পূর্বাভাসের চেয়ে দুর্ব ছিল এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংক্রান্ত JOLTS থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিও প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আবারও বাড়তে শুরু করেছে, যা তাত্ত্বিকভাবে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি ঘটিয়ে থাকতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। এই অভিযানের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ এখনও জানা যায়নি, তবে এটি যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট। এরই মধ্যে তেল, গ্যাস ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে।
মঙ্গলবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে কোনো ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি, কারণ সারাদিন ধরে এই কারেন্সি পেয়ারের মূল্য কোনো নির্দিষ্ট লেভেল বা এরিয়ায় পৌঁছায়নি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে, ট্রেডাররা চাইলে শুক্রবার ওপেন করা 'শর্ট পজিশন'গুলো হোল্ড করে রাখতে পারেন।
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে GBP/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, যা কারেকশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আমাদের মতে, মধ্যমেয়াদে পাউন্ডকে মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকা উচিত, যদিও বর্তমানে কারেকশনের প্রভাবে দরপতন হচ্ছে। সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের লোয়ার বাউন্ডারি থেকে আপার বাউন্ডারির দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং এই মুভমেন্ট এখনও সম্পন্ন হয়নি। গত শুক্রবার মার্কিন ডলারের সার্বিক প্রেক্ষাপটের উন্নতি হয়েছে, তবে মার্কিন ডলার খুব বেশিদিন এই সহায়তা পাবে না।
বুধবার, এই পেয়ারের মূল্যের 1.3456-1.3476-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখতে পারেন, যেক্ষেত্রে শুক্রবারের সিগন্যাল কাজে লাগানো যেতে পারে। অন্যদিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.3456-1.3476 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3587-1.3598-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741। বুধবার যুক্তরাজ্যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট নির্ধারিত নেই; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কেবল এডিপি থেকে শ্রমবাজার বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যা তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে, আজ মার্কেটে ভোলাট্যালিটি বেশ কম থাকতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।